অগস্ত্য (২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬)

76880অনেকেই জানে না, কিন্তু অগস্ত্য মুনি, যিনি এক চুমুকে পুরো সমুদ্দুর খেয়ে ফেলেছিলেন, ছিলেন আদ্যোপান্ত বাঙালি। গ্যাস-অম্বলে জর্জরিত তীব্র তেজোগর্ভ এক সন্ন্যাসী, পান থেকে চুন খসলে যাঁর মাথা-গরমের চোটে থরোথরো কাঁপত সারা ব্রহ্মাণ্ড! যাঁর পুরো নাম ছিল অগস্ত্য বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনেকেই জানে না বাতাপি আর ইল্বলের গল্পও। কারা তারা? না, পুরাণের আমলের দুই দৈত্য ব্রাদার্স, যারা আদতে ছিল হেভি ঢ্যামনা। দুই ভাইয়ের হবিই ছিল বামুনদের খুন করা। তাও আবার তাদের নিজস্ব, অদ্ভুত এস্টাইলে। কীরকম? শুনলে পরে তাজ্জব হতে হয়! দুইজনায় মিলে বামুনের ছদ্মবেশে অন্য গরিবগুর্বো বামুনদের নিজেদের বাড়িতে ডেকে আনত নেমন্তন্ন করে। অতঃপর নিমন্ত্রিত বামুনদের অলক্ষে বাতাপি রূপান্তরিত হত এক নধরকান্তি পাঁঠায়। ইল্বল তারপর সেই পাঁঠা কেটে রান্নাবান্না সেরে ‘মাটন মহারাজা’ ডিশ সাজিয়ে এনে পরিবেশন করত অভ্যাগত বামুনদের।

খেয়েদেয়ে বামুনরা যখন ঢ্যাক-ঢ্যাক ঢেকুর তুলে সবে একটু লম্বা হয়ে নেবেন ভাবতেন, সেসময়ই হারামির হাতবাক্স ব্যাটা ইল্বল আকুল হয়ে ডাক ছাড়তে শুরু করত, “বাতাপি! ওরে ও বাতাপি, ভাই আমার! কোথা গেলি বাপধন?”
ব্যস, ওই ডাকটুকুরই শুধু অপেক্ষা। মাটন সাঁটানো বামুনদের পেট চিরে বেরিয়ে আসত আস্ত পাঁঠারূপী বাতাপি। স্বাভাবিকভাবেই তৎক্ষণাৎ পেট ফেটে অক্কা পেতেন সেই গরিব বামুন ঠাকুরেরা।

এর পরের গল্পটা যারা জানে, তারা তো জানেই, যারা জানে না, তাদের ছোট্ট করে বলি, অগস্ত্য মুনি বাতাপি ও ইল্বলের এই শয়তানির কথা জানতে পেরে নিজেই এসে হাজির হয়েছিলেন তাদের বাড়ি। নিজেই খেতে চেয়েছিলেন ‘মাটন মহারাজা’। ইল্বল তো হেবি খুশি! চটজলদি পাঁঠারূপী বাতাপিকে কেটেকুটে রান্না করে সে নিয়ে এসেছিল অগস্ত্য মুনির সামনে।

দক্ষিণ ভারতীয় দুই দৈত্য আর কী জানবে বাঙালি মুনির বুদ্ধি! অগস্ত্য মাটন-ফাটন সাঁটিয়ে মেঝেয় বিছানো মাদুরের উপর একটু লম্বা হয়েছেন কি হননি, ইল্বল রুটিনমাফিক শুরু করেছে চ্যাঁচানি, ‘‘ওরে ও বাতাপি, কোথা গেলি ভাই আমার…’’

‘‘নিকুচি করেছে তোর বাতাপির,’’ অগস্ত্যর প্রবল ব্যারিটোন ধমকে কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায় ইল্বলের। মুনি দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা মাটনের কুচি ছাড়ানো থামিয়ে আকাশ কাঁপানো একখানা অট্টহাস্য হেসে বলতে থাকেন, ‘‘বাতাপি তো হজ়ম হো গ্যয়া রে বাচ্ছা! আব তেরা কিয়া হোগা ইলু?’’

ইল্বল ঘাবড়ে গিয়ে জানতে চায়, ‘‘ম্ম-মানে? ‘হজ়ম হো গ্যয়া’ মানে? কী বলছেন! কে আপনি?’’

অগস্ত্য মুনি বাঙালিসুলভ তাচ্ছিল্যের একটা ফিক হাসি হেসে ফের গা এলিয়ে দেন মাদুরের ঠান্ডায়। তার আগে সঙ্গের ঝোলা থেকে একটা ট্যাবলেটের পাতা বের করে তিনি ছুড়ে দ্যান হতবাক ইল্বলের দিকে। সে গামবাট ততক্ষণে কাঁপতে শুরু করেছে আতঙ্কে। কাঁপা হাতেই ট্যাবলেটের পাতাটা তুলে নিয়ে ইল্বল দ্যাখে, ওষুধটার নাম ‘জেলুসিল’। সৃষ্টির আদিকাল থেকে বাঙালির গ্যাস-অম্বল-চোঁয়াঢেকুরের অব্যর্থ মহৌষধ!

অগস্ত্য বাঁড়ুজ্যে তখন মাদুরে আধশোওয়া হয়ে মিটিমিটি হাসছেন। আর মনে-মনে বলছেন, ‘‘শালা শুয়ার! জেলুসিলখেকো বাঙালির হজমশক্তিকে চমকাতে এসেছিল শালারা! মাইরি… এদের দেয় কে?’’

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s