গণেশ চতুর্থী (৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬)

Bal-Ganesha-Cartoon-HD-Wallpaper.jpeg

স্বর্গে সেদিন সকাল থেকে হেভি বাওয়াল। ওপরমহল থেকে কোন এক মস্ত ফোটোগ্রাফারকে অ্যাপয়েন্ট করা হয়েছে। সে উজবুকের মাথায় ছিট আছে কি না কে জানে, সে ব্যাটা সকাল থেকে ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে বেরিয়ে প়ড়েছে স্বর্গের মেঘে-মেঘের উপর-উপর! আর নিজের আশপাশে যাকে যখন সে পাচ্ছে দেখতে, খ্যাচাখ্যাচ খ্যাচাখ্যাচ ছবি তুলে নিচ্ছে ফটাফট! বরুণদেবের বিশ্রী স্বভাব, রাস্তার ধারে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে পড়ে মূত্রবিসর্জন। ফোটোগ্রাফার বজ্জাতটা সেই অবস্থাতেই ক্যামেরার শাটার মেরেছে খ্যাচাক, ছবি উঠেছে খ্যাচাখ্যাচ খ্যাচাখ্যাচ! সেই থেকে লজ্জায় অপমানে বরুণদেব সিধে গিয়ে সেঁধিয়েছেন নিজের গোঁসাঘরে।

বিষয় কী? খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, এ তল্লাটে যাঁর দাপটে এক থালায় ভাত খান অগস্ত্য ও ইল্বল, যাঁর তুখোড় অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্কিলের বাঁধনেই নিশ্চিন্তে দোদুল দুলছে এ মহাবিশ্ব, সেই ত্রিভঙ্গমুরারি নাকি সম্প্রতি খেয়াল করেছেন, দেবলোকে বড়-বড় দেবদেবীদের সন্তানাদির সংখ্যা নির্দিষ্ট হলেও ছোটখাটো সব দেবতাদের জীবনে না আছে কোনও দায়-দায়িত্ব, না আছে কোনও দুশ্চিন্তা। ফলত ভোগ আর সম্ভোগ, এই দুই ছাড়া তাঁদের জীবনে কিচ্ছুটি করার নেই। যার ফলশ্রুতিতে এইসব উপদেবতাদের ছানাপোনার সংখ্যা দিন-দিন বেড়ে চলেছে আপন মত্ত খেয়ালে।

তা, সে বাড়ুক। তাতে বৈকুণ্ঠে বসে থাকা ওই লোকটার কিছু যায় আসে না। কিন্তু তিনি শুধু এটুকু চান, তাঁর রাজত্বে সবার একটা করে অন্তত ফোটো আই ডি থাকুক। যাঁর বুদ্ধিতে খাওয়া-পরা জুটছে, কাচ্চাবাচ্চা নিয়ে সুখে-শান্তিতে কেটে যাচ্ছে দিনের পর দিন, তাঁর ইচ্ছে অমান্য করার সাহস কারওরই নেই। আপত্তির তাই কোনও প্রশ্নও নেই। ক’মাস আগে শোনা গেল, কেশব নাকি অনেক ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর অ্যাপয়েন্ট করেছেন সেরার সেরা এক ফোটোগ্রাফারকে, নিপুণ দক্ষতায় যে তুলে আনবে সমস্ত দেবতাদের পাসপোর্ট সাইজ, কালার ছবি। যা ব্যবহার করা হবে তাঁদের আধার কার্ডে।

সেই উজবুক এই ক’মাস বৈকুণ্ঠে থাকা-খাওয়ার অ্যালাওয়েন্স পেয়ে তোফা আরামে গা ভাসিয়ে একটি ছবিও তুলে এনে দেখায়নি বড়কত্তাকে। গতকাল রাতে ব্যাপারটা খেয়াল করে নাকি রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে তাকে শাস্তি দিয়েছেন স্বয়ং শ্রীবিষ্ণু। অভিশাপ দিয়েছেন, পরদিন সূর্যোদয়ের সময় থেকে যতক্ষণ না স্বর্গের সমস্ত দেবদেবীর কালার পাসপোর্ট ছবি তুলে আনছে সে, থামবে না তার ক্যামেরার শাটার! ঘুরে-ঘুরে, ঘুরে-ঘুরে সারাটা দিন-রাত নিরন্তর ছবি তুলে যাবে সে! সেই অভিশাপের জেরেই বেল্লিকটা আজ সকাল থেকে…

দুপুর বারোটার আশপাশে হবে। কৈলাসে সেসময় বরফের উপর খেলে বেড়াচ্ছিল দেবাদিদেবের দুই সুপুত্র কার্তিক ও গণেশ। দাদা কার্তিকের হাতিতে ভারি ভয়। সুযোগ পেলেই তাই ভাই গণেশ কোত্থেকে ঠিক জোগাড় করে আনে হাতির একটা মুখোশ। তারপর সেটা মুখে চাপিয়ে দাদাকে ঘুরে-ঘুরে ভয় দেখিয়েই তার যত আমোদ!

সেদিন দুপুরেও ধবধবে সাদা বরফের মাঠের উপর দুই ভাইয়ে সেরকমই হুটোপাটি চলছিল। এমন সময় হঠাৎ, দূর থেকে শোনা গেল ভয়ানক খ্যাচাখ্যাচ খ্যাচাখ্যাচ! শব্দের উৎসটা যে ঠিক কী, সেকথা দুই বালক ঠিকঠাক বুঝে ওঠার আগেই দেবলোকের সমস্ত অফিসিয়াল ডকুমেন্টে জমা পড়ে গেল শিবঠাকুরের কনিষ্ঠ পুত্রের হাতির মুখোশ পরা ছবি। কালার। পাসপোর্ট সাইজ।

তারপরের কান্নাকাটি, কমপেনসেশন হিসেবে গণেশের সবার আগে পুজো পাওয়ার গপ্পো ইত্যাদি সবাই জানেন। হ্যাপি গণেশ চতুর্থী।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s